দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, ঠিক সেই সময়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক আতঙ্কজনক নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে। পৌরসভার একটি জনবহুল এলাকায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে সংঘটিত এই বিস্ফোরণের বিকট শব্দে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুলস্থুল পড়ে যায়। ভীতি ছড়ানো এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালচরণ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অত্যন্ত কম সময়ের ব্যবধানে অত্যন্ত সুকৌশলে পরপর তিনটি শক্তিশালী ককটেল ফোটানো হয়:
প্রথম বিস্ফোরণ: সন্ধ্যার ঠিক প্রাক্কালে সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রফেসর মো. আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাসার মূল ফটকের সামনে প্রথম ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়।
দ্বিতীয় বিস্ফোরণ: এর ঠিক কিছুক্ষণ পর স্থানীয় গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে দ্বিতীয় ককটেলটি ফোটানো হয়।
তৃতীয় বিস্ফোরণ: এর মাত্র দুই মিনিট পর ওই একই বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
পরপর এই তিনটি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের পথচারী ও দোকানদারেরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশের একটি বিশেষ দল আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত অংশ ও ককটেলের বিস্ফোরিত খোসা উদ্ধার করেছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এই নাশকতার নেপথ্যে কারা জড়িত তা উদঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সন্ধ্যায় সংঘটিত এই ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে ভীতি ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই অন্তর্ঘাত চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।