×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-২৪
  • ১৯ বার পঠিত
শাজাহান আহমেদ আসিফ, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি

 নরসিংদী শহরের লাইব্রেরি পট্টিতে মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সরকারকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকার নুরুল আমিনের তিনতলা ভবনের বেজমেন্টের গ্যারেজের একটি মুরগির ঘর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নরসিংদী জেলা পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে নরসিংদী মডেল থানাধীন লাইব্রেরি পট্টিতে একটি লাইসেন্সকৃত দেশীয় মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মিনু বেগম বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার, তাঁর ছেলে জাহিদ সরকার (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে—জাহাঙ্গীর সরকার ওই দোকানে গিয়ে ১০ লিটার মদ বিনামূল্যে দাবি করেন। দোকানের কর্মচারীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি জোরপূর্বক মদ নিয়ে যান। পরে একই দিন তাঁর ছেলে জাহিদ সরকার সহযোগীদের নিয়ে দোকানে ফিরে এসে তানভীরের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জাহিদ সরকারের সহযোগী কাজী তৌফিক আহমেদ পিয়াসকে (২৬) শনাক্ত করা হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাছিম মিয়াসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

এদিকে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধনটি মিছিলে রূপ নেয় এবং জাহাঙ্গীর সরকার পরিচালিত নিরালা আবাসিক হোটেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 ভুক্তভোগী তানভীর আহমেদ রাব্বি বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নরসিংদী জেলা পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat