নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের নানা বাধা দূরীকরণ, পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্থলবন্দর সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠক। দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে।
বাণিজ্যিক বাধা ও অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক: বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান নানামুখী বাণিজ্য বাধা (ট্যারিফ ও নানট্যারিফ ব্যারিয়ার) দূর করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে ঢাকা। বিশেষ করে, বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের জোরালো দাবি তুলছে বাংলাদেশ।
স্থলবন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজতর করতে স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পোর্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
আমদানি ও রপ্তানির পরিসংখ্যান: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং একই সময়ে ভারত থেকে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। চীনের পরেই ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।