সাব্বির আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য এ সেতু নির্মাণকে ঘিরে এরই মধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হলে সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি মাদারীপুর শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। এ সময় তাঁর সঙ্গে চীনা প্রকৌশলীরা প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদাত আলী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল আড়িয়াল খাঁ নদে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের। নদীর কারণে মহিষেরচরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মাদারীপুর শহরে যাতায়াতে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নদী পারাপারের জন্য ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় এ যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের এ যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে এলজিইডি। একই সঙ্গে চীন সরকারের সঙ্গে সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় চীনা প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে পরবর্তী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।
সেতু নির্মাণের পর এলাকার মানুষের যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও সুবিধা সৃষ্টি হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। বর্তমানে নদী পারাপারের ওপর নির্ভরশীল থাকায় অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত শহরে যাওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ হিসেবে জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেতু নির্মাণের কাজ উদ্বোধনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।
এলজিইডির গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদাত আলী বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয়ে চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চীনা প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে বড় ধরনের কোনো জটিলতা নেই। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারে দুর্ভোগে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু এবং নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করার প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই নয়, ওই এলাকার শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..