×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০১
  • ৫৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম / ঢাকা:

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো অভিযান ও ধরপাকড় চললেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা ও সহিংসতা থামছে না। গত দুই দিনের ব্যবধানে নগরের খুলশী থানায় ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের কোন্দলে মো. হৃদয় নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য খুন হয়েছেন। এছাড়া বাকলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যের অংশ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে অপরাধের চিত্র ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ:

  • খুলশীতে হৃদয় হত্যা: গত ২৯ সেপ্টেম্বর খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনিতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগার অফিসে ডেকে নিয়ে ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের সদস্য হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কামরুলসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

  • ‘বগা’ ও ‘হেলাল’ বাহিনীর অন্তর্ঘাত: স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যমতে, খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনিতে সক্রিয় ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ‘বড়ভাই’। এর মধ্যে ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামি বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগা এবং ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের সদস্যরা খুলশী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

  • বাকলিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বাকলিয়া থানাধীন সৈয়দ শাহ রোডে বহিষ্কৃত যুবদল কর্মী মুরাদ ও জসিম উদ্দিন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়, যাতে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্য অংশ নেয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে মূলহোতা ‘মুরাদ বাহিনীর’ প্রধান মো. মুরাদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

  • দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান: পুলিশ সদর দপ্তরের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কিশোর অপরাধ ও গ্যাং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শুধু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৩১০ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে অপরাধে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি:

কিশোর অপরাধ ও গ্যাং সংস্কৃতির মূলোৎপাটনে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন যে, কিশোরদের ব্যবহারকারী এবং তাদের নেপথ্যের প্রভাবশালী ‘বড়ভাইদের’ কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের তালিকা হালনাগাদ করে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কেবল গ্রেপ্তার নয়, কিশোরদের অপরাধে মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat