×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০৩
  • ৬৪ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী মহানগরীর অপরাধ ও মাদকের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত মতিহার থানা এলাকা। এই অঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বহুমুখী অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মাসুদ রানা রাব্বানীকে ঘিরে এবার পুলিশের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার ‘সিডিএমএস’ (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) থেকে মামলার রেকর্ড উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী কীভাবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধ সাম্রাজ্য বিস্তার করলেন এবং কার ইশারায় কেন্দ্রীয় পুলিশি ডাটাবেজ থেকে তার অপরাধের নথি মুছে ফেলা হলো, তা নিয়ে রাজশাহীজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই নেপথ্য শক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপি বরাবর অভিযোগ
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মতিহার থানাধীন তালাইমারী কাজলা এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা রাব্বানীর বিরুদ্ধে অতীতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে ডজনেরও বেশি মামলা ও জিডি ছিল। বিএনপি সরকারের আমল থেকেই তিনি মতিহার অঞ্চলের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার ও কারাবরণের নথিসহ ২০২১ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা এসব মামলার বিস্তারিত বিবরণ পুলিশের সিডিএমএসে সংরক্ষিত ছিল।

তবে সম্প্রতি যাচাই করে দেখা যায়, পুলিশি তথ্যভাণ্ডার থেকে তার অতীত অপরাধ সংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্য ও সন্ত্রাসী তালিকার রেকর্ড রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি, নাকি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অপরাধীকে দায়মুক্ত করার অপচেষ্টা, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

আবেদনের সঙ্গে ২০২১ সালের একটি নিয়মিত মামলাসহ রাব্বানীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরোনো একাধিক মামলার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় সিস্টেমে এসব তথ্যের অনুপস্থিতি পুলিশের অভ্যন্তরীণ ডেটা নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন রাব্বানী। প্রায় ৫-৬ বছর আগে মতিহার এলাকার এক মাদক কারবারিকে পুলিশের মাধ্যমে আটক করিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে রাব্বানীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিজানুর রহমান টনির সঙ্গে পুলিশের অর্থ লেনদেনের কথোপকথন শোনা যায়।

এছাড়া ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আরএমপি বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের করা একটি রাজনৈতিক মামলায় প্রতিপক্ষ সাংবাদিক ও ভিন্নমতের ব্যক্তিদের নাম ঢুকিয়ে পরে বাদ দেওয়ার নামে অর্থ দাবির অভিযোগ ওঠে। একই বছরের ২৮ নভেম্বর দায়ের হওয়া আরেকটি রাজনৈতিক মামলায় বাদীকে চাপ প্রয়োগ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এজাহার করানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। মামলার তদন্তে থাকা তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা এসআই মিজানের সঙ্গে রাব্বানীর যোগসাজশে মামলায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও অব্যাহতির নামে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন খোদ বাদী, যার ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাব্বানী রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের পুলিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করিয়ে বাণিজ্য চালিয়েছেন। ২০২৩ সালের রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৎকালীন মেয়রের পক্ষে প্রচারণায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিডিও চিত্রও প্রকাশ্যে এসেছে।

সম্প্রতি নিজের অতীত অপকর্ম, মামলা এবং পুলিশের সঙ্গে অস্বচ্ছ যোগাযোগের বিষয়গুলো জনসমক্ষে আসতে শুরু করলে তিনি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব ও পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও চরিত্র হননে লিপ্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, "ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র মাঠে নেমেছে। তারা বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে মূলধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব ফেক আইডি শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নেপথ্যে কারা রয়েছে তা সাংবাদিক সমাজের জানা এবং তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত পদক্ষেপ এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।

পুলিশের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার থেকে মামলার রেকর্ড অপসারণের বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জানান, মাঠপর্যায় থেকে সাধারণত সিডিএমএসে মামলার তথ্য সংযোজন করা যায়, তবে তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ স্থানীয়ভাবে নেই। মাসুদ রানা রাব্বানীর সিডিএমএস রেকর্ড সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির নির্দেশনার আলোকে তদন্ত শেষে সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat