নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যু হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও বিশেষ দিকসমূহ:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি: আগামী ১ ডিসেম্বর রাজধানীর নির্ধারিত ভেন্যুতে আয়োজিত বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন।
তৃণমূল পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ: দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পরিবার পরিকল্পনা সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ এবং সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এই ক্যাম্পেইনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো অনেক গর্ভবতী নারী সঠিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হন। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীদের চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হবে, যা মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
সচেতনতা ও পরামর্শ কার্যক্রম: জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির আধুনিক ও স্থায়ী উপায় সম্পর্কে দম্পতিদের সঠিক ধারণা দিতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাউন্সেলিং করবেন। পাশাপাশি কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ সেশন পরিচালনা করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে এই মাসব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন অত্যন্ত যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।