খন্দকার মোহাম্মাদ আলী বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সম্প্রতি দেশের ভূখণ্ডে রাজনীতিতে যুক্ত ব্যক্তিদের অপ-রাজনীতির ছত্রছায়ায় কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি কৌশলে রাজনৈতিক পদ-পদবি দখল করে প্রভাবশক্তির মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অধিকার ও দাবির প্রেক্ষাপট তৈরি করে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। মূলত, এসব ব্যক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কূটকৌশল প্রয়োগ করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছে। যার ফলশ্রুতিতে, ঘুরেফিরে তারাই লাভবান হচ্ছে।
যুগের পর যুগ একই দৃশ্য, একই চিত্র এবং একই পন্থায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি দেশের নিরীহ, অসহায়, অবহেলিত ও পরনির্ভরশীল মানুষের একমাত্র সাংবিধানিক অধিকার, ভোট প্রয়োগের স্বাধীনতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের অজুহাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাধারণ মানুষকে শোষণ করে আসছে।
এ বিষয়ে দেশে এমন কোনো বিজ্ঞানী, দার্শনিক, জ্ঞানী, জননেতা কিংবা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি কি জন্ম নিচ্ছেন না, যিনি তাঁর প্রজ্ঞাময় জ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়ে রাজনীতিকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের কবল থেকে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ধারা পাল্টে দিতে পারেন? যিনি শান্তিময়, সুস্থধারার একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলে দেশের ভূখণ্ডে এক স্বর্গীয় প্রশান্তির আবির্ভাব ঘটাতে পারেন?
সময় এখন শুধু জীবনের ইতি টানার অপেক্ষা নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দৃশ্যমান এক অকল্পনীয় বাস্তবতার সঙ্গে যেন নীরবে চলছে এক মৌন যুদ্ধ। এখানে শিরোনামহীন যুদ্ধের সৈনিকেরা রয়েছে অজানা এক অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে। শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই মিলে বাংলাদেশ নামক এক ভেলায় যেন ভেসে চলেছে অজানা গন্তব্যের দিকে।
সাগরের উত্তাল জলরাশির উথাল-পাথাল ঢেউ, ঈশান কোণের মেঘ-বৃষ্টি, বৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের লেলিহান শিখা যেন জীবন্ত প্রাণকে শুধু মৃত্যুর মুখোমুখিই করছে না, বরং মনে হচ্ছে এ ভূখণ্ডে অপরাধীদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রসদ।
মাদক নামের বীজ থেকে তৈরি হচ্ছে এক ভয়াবহ সামাজিক বাস্তবতা। সেই বিষবৃক্ষের শিকড় ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে সমাজের গভীরে। মাদকের ভয়াবহতায় আক্রান্ত মানুষের দেহ যেন জীবন্ত এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। তাদের দূষিত নিঃশ্বাস ও অপরাধপ্রবণ কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।
এরা শুধু মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ নয়; বরং সুস্থ ও শৃঙ্খলিত জীবনব্যবস্থায় চলতে অভ্যস্ত না হয়ে নোংরামি, নষ্টামি, ভণ্ডামি, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও কলুষিত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। এদের একটি অংশকে সমাজবিধ্বংসী শক্তিতে পরিণত করার পেছনে দেশের রাজনীতিতে যুক্ত অর্থলোভী ও বিকৃত মানসিকতার কিছু ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অপশক্তি সমাজব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পরিবার থেকে শুরু করে গোটা দেশের শৃঙ্খলাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরপরও তারা থেমে নেই। রাজনীতির ছত্রছায়ায় নানা মুখোশ ধারণ করে অবলীলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের পথ প্রশস্ত করছে।
তাদের আচরণে উগ্রতা, রুক্ষ মেজাজ, অভদ্রতা ও নৈতিক অধঃপতনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে তাদের সখ্য ও স্বার্থের ঐক্য অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান। তারপরও দেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রকৃত আদর্শ ফিরে পেতে চায়। দেশের ভূখণ্ড থেকে পাপ-পঙ্কিলতা দূর করে মানবসভ্যতার মূল্যবোধে গড়ে ওঠা লাল-সবুজের পতাকার ছায়ায় ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসনসমৃদ্ধ একটি কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা রয়েছে সাধারণ মানুষ ।
এমন একটি সমাজ, যার গন্তব্যে রয়েছে শান্তি, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার চিরজাগ্রত বার্তা। দেশের মানুষ সেই প্রত্যাশার কথা জানে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
এ বিষয়ে উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কিছু স্বেচ্ছাসেবীরা বাস্তব চিত্র তুলে ধরে দেশের বিবেকবান ও সুস্থধারার রাজনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশা করছেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিময় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে বিবেক, নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। দেশের কল্যাণে তরুণ প্রজন্ম যাতে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে পারে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের সেই পথ প্রশস্ত করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ জাতীয় আরো খবর..