বিশেষ সংবাদদাতা:
ধর্মের ভিত্তি বিবেচনা করে নয়, বরং দেশের সমান নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি পূজা মণ্ডপ ও মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পূজার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাতে এলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইতিহাসের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দল-মত ও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন আনবো? স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও সমভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, তাই ক্ষমতার মধ্যে থেকে প্রত্যেককে মানুষ ও নাগরিক হিসেবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়াই আমার দায়িত্ব।”
কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ: সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজায় ছুটি বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় অনুদান বাড়ানোয় পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হিন্দু সম্প্রদায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং তারা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাসসহ বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিনিধিগণ। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান সানি উপস্থিত ছিলেন।