×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১৮
  • ২৫ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: 

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের সংকট, শিক্ষাব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটার অভিযোগ—এসব বিষয় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এই প্রজন্ম নিজেদের দাবি তুলে ধরতে যেমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, তেমনি প্রয়োজনে রাজপথেও প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের ভূমিকা সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
জেন-জি বলতে সাধারণত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বোঝানো হয়। প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম তথ্যপ্রাপ্তি, মতপ্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আগের প্রজন্মের তুলনায় ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে তাদের প্রত্যাশাও স্পষ্ট।

কোটা আন্দোলন থেকে বৃহত্তর গণ-অভ্যুত্থান

বাংলাদেশে জেন-জির রাজনৈতিক সক্রিয়তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ শুরু হলেও একপর্যায়ে তা আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের রূপ নেয়।
চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন, বৈষম্যহীন সুযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহির দাবির সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হয় সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় বিচার পাওয়ার প্রশ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বিশ্লেষণেও কোটা আন্দোলন থেকে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তরুণদের সব প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। বরং কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—পড়াশোনা শেষ করে উপযুক্ত কাজ পাওয়া যাবে কি না। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়া, নিয়োগের সীমিত সুযোগ, অভিজ্ঞতার চাহিদা এবং শিক্ষার সঙ্গে শ্রমবাজারের প্রয়োজনের অসামঞ্জস্য তরুণদের হতাশার কারণ হয়ে উঠছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে বাংলাদেশে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২৬ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছিল বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে কর্মহীনদের বড় অংশ শিক্ষিত বলে তুলে ধরা হয়েছিল। ।
চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লেও সেই অনুপাতে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে। অনেকের কাছে সরকারি চাকরি এখনো নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতীক। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে নিয়োগের অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কঠিন করে তুলছে।
কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং নতুন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে শুধু চাকরির আশ্বাস নয়, বাস্তবসম্মত কর্মসংস্থান নীতি ও দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat