জনস্বাস্থ্য ব্যুরো:
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্যের নিরাপত্তা ও খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের খাদ্য ব্যবসায়ী ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA)।
নতুন এ নির্দেশনার আওতায় সাধারণ রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, সিঙাড়া ও পেঁয়াজু বিক্রির মতো ক্ষুদ্র স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬ ধরনের খাদ্য ব্যবসার জন্য বিনামূল্যে নিবন্ধন প্রদান করবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে: ১. রেস্তোরাঁ
২. বেকারি
৩. ফলের রসের দোকান
৪. পেস্ট্রি শপ
৫. ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান
৬. প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী
৭. মিষ্টির দোকান
৮. দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী
৯. কাঁচা ও তাজা খাদ্য ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক
১০. পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ সব ধরনের রাস্তার খাবার বিক্রেতা
১১. পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা
১২. খাদ্য সংরক্ষণাগার ও হিমাগার
১৩. ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনকারী
১৪, ১৫ ও ১৬. অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনা।
সাধারণ নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি বা মাশুল জমা দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
শিশুখাদ্য ও পথ্য: শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা বিশেষ রোগীদের স্বাস্থ্যসহায়ক, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত পথ্য, প্রিবায়োটিক ও নিউট্রাসিউটিক্যালস।
বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত খাবার: জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য (GMO), জৈব খাদ্য (Organic Food), অভিনব খাদ্য ও অতিরিক্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার।
আবেদন জমা: নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ে সরাসরি জমা দেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেয়াদ ও নবায়ন: প্রতিটি নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদী সময়সীমা হবে ৩ বছর। মেয়াদ শেষে তা বাধ্যতামূলকভাবে নবায়ন করতে হবে।
মোড়কজাতকরণ শর্ত: যেসব পণ্যের গায়ে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেগুলোর প্যাকেটে নম্বরটি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।