×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ২২ বার পঠিত

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ

মাদারীপুর সদর উপজেলায় মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ত্রিশটি বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদ কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মোড়ল এর তীব্র বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে নিজেকে সভাপতি হিসেবে দাবি করে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এর জেরে বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের একশরও বেশি কর্মী-সমর্থক দলবদ্ধ হয়ে এমদাদ মাতুব্বরের অনুসারীদের বাড়িঘরে আকস্মিক হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তামিম মাতুব্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে একপেশে আচরণের অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ প্রতিপক্ষ বাচ্চুর পক্ষাবলম্বন করে আমাদের জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপরই বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের ঘরবাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।’

অন্যদিকে, এই হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাচ্চু মোড়ল। তাঁর দাবি, এলাকায় অহেতুক আধিপত্য বজায় রাখতে চান এমদাদ ও তাঁর লোকজন। তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করে এখন সম্পূর্ণ দায় তাঁর ওপর চাপাচ্ছেন। এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য পুলিশের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

অপর পক্ষের নেতা এমদাদ মাতুব্বর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চু মোড়লের লোকজন আজ যেভাবে প্রকাশ্য তাণ্ডব চালাল, তারপরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খুবই তুচ্ছ ও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এই দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি এর আগের দিন সোমবারও তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল, সেসময়ও কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ উভয় পক্ষকেই বারবার শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সম্পর্কে ওসি বলেন, এলাকার সবাই নিজেরা আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া। যখনই তাদের অবৈধ দাবি মানা হয় না, তখনই তারা পুলিশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। অপরাধীদের শনাক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat