জাহিদ হাসান টিপু ,জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পিলার থেকে একটি ভারী বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম (৪০) নিহত হওয়ার পর তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায়। সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরকাঠি এলাকার পৌর কবরস্থানে তাকে শায়িত করা হয়। এর আগে সকাল ৯টায় নিজ বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা; স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী এতে অংশ নেন। রোববার রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নতুন আইলপাড়া এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবার জানায়, আবুল কালাম ঢাকার মতিঝিলে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতেন। স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন; পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন এলাকার বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে দিয়ে হাঁটার সময় ওপর থেকে বিয়ারিং প্যাড ছিটকে পড়ে তার মাথায় লাগে; ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন আশপাশের পথচারীরা।
দাফন শেষে নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সন্তানরা এখনও বুঝতে পারে না তাদের বাবা আর ফিরবে না। ওরা বলে, ‘বাবা ঘুমাচ্ছে, মা তুমি কান্না করোনা।’ আমি কীভাবে বোঝাবো যে, বাবা আর জাগবে না!”
স্বজন আসমা বেগম বলেন, “কয়েক দিন পর গ্রামের বাড়িতে আসার কথা ছিল। বলেছিল, ‘ভাবি, কিছু ইলিশ কিনে রেখো। কিন্তু তার আগেই সে নিজে লাশ হয়ে এলো।”
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম খান জানান, “জানাজা ও দাফনের সব কার্যক্রম প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন,”পুরো শরীয়তপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, একটি জীবনের ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ টাকা হতে পারে না, এই মৃত্যুর দায় সরকারের, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের, নিহতের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”