কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বিস্কুট, পাউরুটি, কেকসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম এক লাফে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বেকারি প্রস্তুতকারক সমিতি। হঠাৎ করে বেকারি পণ্যের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাউরুটি, পেস্ট্রি, ড্রাই কেক এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুটের প্যাকেটের গায়ের দামে নতুন এ মূল্য সংযোজন করা হয়েছে। সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির দৈনিক নাশতার বাজেটে এই সিদ্ধান্ত সরাসরি আঘাত হেনেছে।
বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খুচরা পর্যায়ের চিত্র নিম্নরূপ:
পাউরুটি (প্রতি প্যাকেট): ৫০ টাকার পাউরুটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায় এবং ১০০ টাকার পাউরুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়।
প্লেন কেক/ড্রাই কেক: কেজিপ্রতি বা প্যাকেটপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিস্কুট ও কুকিজ: খুচরা বাজারের প্যাকেটজাত ও খোলা উভয় বিস্কুটের দামেই ১৫-২০% পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশ বেকারি প্রস্তুতকারক সমিতির নেতাদের দাবি, বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বাজারে আটা, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল এবং ডিমের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন খরচ। কারখানা চালু রাখা ও উৎপাদন ব্যয় সমন্বয় করতেই বাধ্য হয়ে তাদের এই মূল্যের নতুন সমন্বয় করতে হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতারা এই সিদ্ধান্তকে অসংবেদনশীল ও অতিরিক্ত মুনাফালোভী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মতে, নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির পর এবার যদি সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের টিফিন বা টি-স্টলের রুটি-কলা-বিস্কুটের দামও এভাবে বাড়ে, তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাব (CAB) জানিয়েছে, কাঁচামালের অজুহাতে একেবারে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। সরকারি তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা এই বাড়তি দাম চাপিয়ে দিচ্ছেন। অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে এই দামের যথার্থতা যাচাই ও বাজার অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।