সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগের ঘটনাটি বেশ আলোচিত।
ঘটনার সূত্রপাত: নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে রিটকারী মো. নুর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। জরিমানার এই টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তর্কাতর্কির কারণ: শুনানির সময় ব্যারিস্টার খোকন জরিমানার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে বলেন যে, নতুন প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে এবং একজন জুনিয়র আইনজীবীর জন্য ৫ লাখ টাকা জরিমানা অত্যন্ত বেশি।
বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগ: এই মন্তব্যের জেরে প্রধান বিচারপতি ও বার সভাপতির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে গড়ালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এজলাস ত্যাগ করেন।
বার সভাপতির ব্যাখ্যা: পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার খোকন জানান, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রতিনিধি হিসেবে খুব বিনয়ের সঙ্গেই আইনজীবীদের বর্তমান আর্থিক ও বিচারিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। আগে আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চে ১১ জন বিচারপতির মাধ্যমে মামলা শুনানি হতো, কিন্তু বর্তমানে মাত্র একটি বেঞ্চ হওয়ায় এবং চেম্বার জাজে স্থগিতাদেশ ঝুলতে থাকায় সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে জরিমানার টাকা মওকুফের অনুরোধ করেছিলেন, তবে প্রধান বিচারপতি এতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবেন তা তিনি আশা করেননি।