×
সদ্য প্রাপ্ত:
তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি তুরাগে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ঘটনাস্থলের কাছেই মিলল মোটরসাইকেল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাঃ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৯-০৯
  • ৭৩ বার পঠিত
​মোঃ অলি উদ্দিন মিলন ঢাকা

বাংলাদেশের ৫০ দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিষয় যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে,ক্ষমতার পালাবদল এবং তার পরপরই বিদায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে মামলার ঢল। সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত প্রশ্ন, রাজনীতি কি কেবলই ক্ষমতা দখল এবং প্রতিপক্ষকে দমনের হাতিয়ার? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতা? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার এই সংকট নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

​পালাবদলের চক্র ও নীরব প্রতিষ্ঠান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনজ্ঞদের মতে, দেশে যখনই ক্ষমতার রদবদল ঘটে, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণের দৃশ্যপটে এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে। ক্ষমতাসীন অবস্থায় কোনো দল বা তাদের মদদপুষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠলেও, আইনি ব্যবস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মতো সংস্থাগুলো সাধারণত নীরব ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পরপরই শুরু হয় দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ডজন ডজন মামলা। হঠাৎ অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠা এই আইনি তৎপরতা কতটুকু অপরাধের শাসন প্রতিষ্ঠা আর কতটুকু 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা':তা নিয়ে জনমনে বরাবরই গভীর সংশয় থাকে।


​কাঠামোগত দুর্বলতা ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম দলীয়করণ ও দুর্বলতা। সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাতান্ত্রিক সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেটগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অটুট থাকে, শুধু তাদের রাজনৈতিক চাদরটি পাল্টে যায়। ব্যাংক লুট, মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের মতো ঘটনাগুলো ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়াতেই ঘটে থাকে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিজস্ব কাঠামোর ভেতরের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো সরকারই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে না। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কোনো স্থায়ী অবসান ঘটে না, কেবল সুবিধাভোগীদের চেহারার বদল হয়।

​বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের পর্যবেক্ষণ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর মতো নাগরিক সংগঠনগুলো দীর্ঘকাল ধরে সতর্ক করে আসছে যে, এই দুষ্টচক্রের কারণে রাজনীতি ক্রমশ জনকল্যাণের বদলে একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি
​বিচারহীনতার সংস্কৃতি: ক্ষমতাসীনদের জন্য এক নিয়ম এবং বিরোধীদের জন্য অন্য নিয়ম এই দ্বৈত নীতি বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
​দুদকের স্বাধীনতাহীনতা: আইনিভাবে স্বাধীন হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারছে না, যা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

​গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব: রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবই প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছে।

উন্নয়নের আড়ালে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নেতাদের কারাবরণ
এই বৃত্ত থেকে বের হতে না পারাটাই বর্তমানে বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক সংকট।
​বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিশোধের রাজনীতির এই অশুভ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার নিরঙ্কুশ নিরপেক্ষতা, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও সমান আইনি প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, ক্ষমতার পালাবদল ও মামলার এই খেলাকেই সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের 'রাজনীতি' বলে মেনে নিতে বাধ্য হবে, যা একটি টেকসই ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat