পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, কূটনৈতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য তরীর অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা কৌশলগত বাণিজ্য পথ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন:
সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর জন্য সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, কোনো সংঘাতের সমাধান যুদ্ধের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং আলোচনার টেবিলই একমাত্র পথ।
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা (Maritime Security): সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও আরব সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও ড্রোন হুমকির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই নেতা। সুয়েজ খাল ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও বাণিজ্য জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
চাবাহার বন্দর ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা: ভারত ও ইরানের মধ্যকার ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প 'চাবাহার বন্দর' (Chabahar Port)-এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক গতিশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। এই বন্দরটি ভারত, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান সেতু হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
সৌদি আরবের তেলের পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলা, বাগদাদ-তেহরান সীমান্ত নিষেধাজ্ঞা এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মোদী-পেজেশকিয়ানের এই বৈঠক বৈশ্বিক নজর কেড়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের ইতিবাচক কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। উভয় নেতাই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) নিরবচ্ছিন্ন রাখতে একে অপরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন।