দীর্ঘ ১ দশকেরও বেশি সময় পর ঘোষিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘৯ম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা সমন্বয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে রেট্রোস্পেক্টিভলি (পূর্ববর্তী তারিখ থেকে) নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর ধরা হলেও সরকারি কোষাগারের চাপ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেতন বৃদ্ধির অর্থ ৩টি ভিন্ন ধাপে বিতরণ করা হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও মাঝারি গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে:
নিম্ন গ্রেডে ঐতিহাসিক বৃদ্ধি: ২০তম (সর্বনিম্ন) গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে প্রায় ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ম (সর্বোচ্চ) গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১,৫৬,০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন (Phase-wise Implementation): বর্ধিত মূল বেতন একবারে দেওয়া হবে না। ১ম থেকে ৯ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে (জুলাই ২০২৬), ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে (জানুয়ারি ২০২৭) এবং বাকি ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে (জুলাই ২০২৭) কার্যকর হবে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১ম ধাপে ৫০ শতাংশ, ২য় ধাপে ২৫ শতাংশ এবং ৩য় ধাপে ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।
ভাতা ও পেনশন পুনঃসমন্বয়: নতুন স্কেলের আওতায় চিকিৎসা, বাড়িভাড়া ও শিক্ষা ভাতা এবং মোবাইল ভাতার পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য স্ল্যাব-ভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধির নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল ও আনুষঙ্গিক সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পে-স্কেল সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। তবে এর পাশাপাশি বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতের আয়ের ব্যবধান সামাল দেওয়া এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখাই এখন সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।
আইন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ভেটিং শেষে এসআরও (SRO) নম্বরসহ দু-এক দিনের মধ্যেই অর্থ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেলের পরিপত্র ও গেজেট প্রকাশিত হবে।