স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতি রোধ এবং প্রকৃত দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে সরকারি ভর্তুকির সুষম ও সঠিক বণ্টন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ড বা পরিবার কার্ডের তালিকা থেকে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য, সচ্ছল ও ভুয়া সুবিধাভোগীকে সফলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার সরকারের চলমান কঠোর মনিটরিং, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ের তদন্ত এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ভিত্তিক ডিজিটাল ডাটাবেজ যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই ব্যাপক ও যুগান্তকারী শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে কেবল সত্যিযাই অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোই তেল, চিনি, মসুর ডাল এবং চালের মতো টিসিবির অত্যাবশ্যকীয় পণ্যগুলো নিয়মিত সংগ্রহ করার সুযোগ পাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও তালিকার বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বহু বিত্তশালী ও ভুয়া ব্যক্তি এই সুবিধার অপব্যবহার করে আসছিল, যা রোধ করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ভর্তুকির অর্থ যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয়ে কেবল প্রকৃত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সর্বোপরি, টিসিবির এই জনবান্ধব কার্যক্রমকে আরও দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং সুশৃঙ্খল করার জন্য ভবিষ্যতে ডিজিটাল মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে বলে আশ্বস্ত করে তিনি জানান যে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।