বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে ভেসে যাওয়া একটি ফুটবল কুড়িয়ে আনতে গিয়ে পানিতে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটকের মরদেহ দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতার পর উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেশের জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপত্তা এবং লাইফগার্ড ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আবারও এক চরম ও মর্মান্তিক প্রশ্নচিহ্নের সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিবরণে জানা যায় যে, নিহত পর্যটক তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৈকতে ফুটবল খেলার একপর্যায়ে বলটি হঠাৎ করেই সাগরের প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে তীরের অনেক দূরে ভেসে চলে যায়, এবং সেই বলটি উদ্ধারের আবেগময় ও অবুঝ তাড়নায় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজের অজান্তেই উত্তাল সমুদ্রের অতল গভীরে নেমে পড়েন, যেখানকার শক্তিশালী আন্ডারকারেন্ট বা পানির নিচের তীব্র স্রোত ও বিশালাকার ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তিনি আর কূলের দিকে ফিরে আসতে পারেননি।
দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সমাগমস্থল হিসেবে পরিচিত এই সমুদ্র সৈকতগুলোতে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা সত্ত্বেও সাধারণ পর্যটকদের মধ্যকার এই ধরনের চরম অসচেতনতা, ব্যক্তিগত ঝুঁকির প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত লাইফ সেভিং অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে প্রায়শই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা রোধ করতে হলে অবিলম্বে সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি এবং কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরি বলে সচেতনমহল মনে করছে।