কঠিন ষড়যন্ত্রের সাইবার ক্রাইমের শিকার সিডিএ চেয়ারম্যান এবং ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েতের জিরো টলারেন্স এর কারণে মাফিয়াদের ঘুম হারাম
বিশেষ প্রতিবেদন | পর্ব ১
প্রণয় দাশ গুপ্ত শিমুল | চট্টগ্রাম ব্যুরো
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অস্পষ্ট ও অযাচাইকৃত ভিডিওকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেনকে নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, তার বিপরীতে নগরবাসী দেখছেন একজন দক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ প্রশাসকের বাস্তব চিত্র। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা আজ পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম, সরকারি সংস্থা বা ফরেনসিক ল্যাব নিশ্চিত করতে পারেনি। ঝাপসা ও সম্পাদিত ওই ভিডিওর ভিত্তিতে একজন পেশাদার প্রকৌশলীর দীর্ঘ কর্মজীবনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
অথচ ২০২৬ সালের জুন মাসে যখন প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন থেকেই চট্টগ্রামের উন্নয়নে নতুন আশার সঞ্চার হয়। কারণ তিনি শুধু একজন চেয়ারম্যান নন, তিনি এই বন্দর নগরীর উন্নয়নের একজন পরীক্ষিত কারিগর।
একজন পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রকৌশলী
প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বাংলাদেশের প্রকৌশল অঙ্গনে একটি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে কখনো কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম বা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠেনি। একজন সদালাপী, বিনয়ী ও কর্মীবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে তার সুনাম সর্বজনবিদিত।
সিডিএর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন একজন ক্লিন ইমেজের মানুষকে নিয়োগ দেওয়ায় নগরবাসী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন।
সিডিএতে তার ইতিবাচক উদ্যোগ
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছেন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে জিরো টলারেন্স: চট্টগ্রাম শহরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সিডিএর চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। তিনি নিজে মাঠে গিয়ে খাল পরিদর্শন করছেন এবং ঠিকাদারদের কাজের মান নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান আরও বেগবান হয়েছে।
নগরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিকল্পিত উন্নয়ন: তিনি চট্টগ্রামকে শুধু ইট-পাথরের শহর হিসেবে দেখতে চান না। তার পরিকল্পনায় রয়েছে আধুনিক পার্ক, উন্মুক্ত জলাধার, শিশুদের খেলার মাঠ ও সবুজায়ন। কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত রিভারফ্রন্ট তৈরির যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করছেন।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সিডিএতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ফাইল আটকে রাখা এবং ঘুষ বাণিজ্যের যে অভিযোগ ছিল, তা দূর করতে তিনি দপ্তরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনেছেন। এখন সাধারণ মানুষ সরাসরি তার সাথে দেখা করতে পারছে। দালালমুক্ত সিডিএ গড়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে তিনি নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলোকে দ্রুত অনুমোদন দিচ্ছেন, যা নগরীর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ষড়যন্ত্র কেন?
প্রশ্ন উঠেছে, এমন একজন সৎ ও কর্মঠ চেয়ারম্যানকে নিয়ে কেন একটি অযাচাইকৃত ভিডিও ছড়ানো হলো? নগরবাসীর ধারণা, যারা দীর্ঘদিন সিডিএকে লুটপাটের আখড়া বানিয়েছিল, যারা অবৈধ দখল ও নকশা বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে, তারাই এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে। একজন সৎ মানুষকে সরিয়ে দিয়ে আবার নিজেদের স্বার্থ হাসিল করাই তাদের উদ্দেশ্য।
একজন প্রকৌশলী যিনি সারাজীবন দেশের সেবা করেছেন, একটি ঝাপসা ভিডিও দিয়ে তার সম্মানহানি করার চেষ্টা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি চট্টগ্রামের উন্নয়নের গতিকে থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র।
তাই গুজবে কান না দিয়ে, ফরেনসিক যাচাই ছাড়া কোনো ভিডিও শেয়ার না করে, নগরবাসীর উচিত সিডিএ চেয়ারম্যানকে তার উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করা। কারণ ব্যক্তি বেলায়েত হোসেনের চেয়ে বড় হলো চট্টগ্রামের স্বপ্ন, চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ।
এ জাতীয় আরো খবর..