মোঃঅলি উদ্দিন মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে আরও ১১টি অত্যাধুনিক বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের মূল বিষয়সমূহ:
বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এটি বিমানের পরিচালন সক্ষমতা, পরিচালনাগত নমনীয়তা ও সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
যে কারণে এই সিদ্ধান্ত: দেশে বসবাসকারী জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা মেটাতে সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে এই ১১টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা হচ্ছে।
বিদ্যমান বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্য: নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে পরিচালনাগত ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য বজায় থাকবে, যা পরবর্তী প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেবে।
উপস্থিত সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ:
অনুষ্ঠানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন:
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদল: যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর।
বোয়িং কর্তৃপক্ষ: বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্টেফানি পোপ, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসন এবং ইউরেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি।
অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সুসম্পর্ক উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে তাদের আস্থা তৈরি করেছে। জাতীয় বাধ্যবাধকতা ও বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও বহর ও নেটওয়ার্কের প্রবৃদ্ধি নিয়মিত পর্যালোচনা করার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
এ জাতীয় আরো খবর..