আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে আরও অর্থ জোগানো কোনোভাবেই ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোতেন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এক সম্মেলনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভালতোতেন বলেন, "মুক্ত বিশ্বের নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো। রাশিয়ার নিপীড়ন থেকে মুক্ত হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে ইউক্রেন, তাই বিশ্ব সম্প্রদায়েরও এই নির্যাতিত দেশের পক্ষে থাকা উচিত।" বিশেষ করে যেসব দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে, তাদের এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশগুলোর প্রতি রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ইইউর অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছ থেকেও এই নীতির প্রতি সমর্থন পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
রাশিয়ার যুদ্ধের কৌশল তুলে ধরে ভালতোতেন আরও বলেন, রাশিয়া শুধু সম্মুখ সমরেই নয়, বরং ইউরোপের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রচলিত সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা, ভুয়া খবর ও অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিপক্ষকে ভেতর থেকে দুর্বল করার অপচেষ্টাই হলো এই হাইব্রিড যুদ্ধ, যা প্রতিহত করতে ইইউভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।