×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১৯
  • ৫৪ বার পঠিত
শাহিদুল ইসলাম, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ নিচু ফসলি জমিতে বারো মাসই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে থাকছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল উর্বর তিন ফসলি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য খামার (ঘের) গড়ে তুলছে। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে এবং দেশজুড়ে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ঘাটতির তীব্র শঙ্কা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার হরতকিতলা, বক্তারপুর, পাঁচলক্ষী, কালামপুর এবং পূর্ব চান্দরা, ভাণ্ডারিয়া এলাকার ফসলি মাঠগুলো এখন মৎস্য খামারিদের দখলে চলে গেছে। অথচ এসব এলাকার নিচু ও মাঝারি জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর, যেখানে প্রতি শতকে ৪০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত বাম্পার ধান উৎপাদন করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ও সরকারি নালাগুলো দখল বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বছরের ১২ মাসই এসব জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। কৃষকেরা জমিতে নামার সুযোগ না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে অনেকেই নামমাত্র মূল্যে জমি মৎস্য খামারিদের কাছে লিজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকেই জমি পতিত ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক মৎস্য খামার মালিকের সাথে কথা বললে তিনি জলাবদ্ধতার মূল সংকটটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের এই পুরো বাদে (বিলে) স্থায়ীভাবে পানি জমে থাকার কারণে জমিগুলো চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। জমি এভাবে ফেলে না রেখে আমরা কয়েকজন মিলে এখানে মৎস্য খামার পরিচালনা করছি। যদি সরকারিভাবে পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আমরাও এখানে মাছ চাষ করতাম না, এই জমিতে ধানেরই আবাদ হতো।"

হরতকিতলা ও কালামপুর এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের   জমিতে একসময় সোনার ফসল ফলতো। এখন পরিকল্পিত জলাবদ্ধতা তৈরি করে চারপাশ দিয়ে উঁচু মাটির বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের বানানো হয়েছে। পানি সরার কোনো পথ নেই। এভাবে ধানি জমি কমতে থাকলে আগামীতে আমাদের চাল কিনে খেতে হবে, যা দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকট তৈরি করবে।"

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ চাষ প্রোটিনের চাহিদা মেটালেও অপরিকল্পিতভাবে প্রধান খাদ্যশস্য ধানের জমি গ্রাস করা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যে উর্বর জমিতে বিঘাপ্রতি রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদন সম্ভব, সেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবকে পুঁজি করে মৎস্য খামার করা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

হরতকিতলা, বক্তারপুর, পাঁচলক্ষী, কালামপুর ও পূর্ব চান্দরা অঞ্চলকে খাদ্য ঘাটতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং উর্বর ধানি জমি বাঁচাতে অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের সরকারি খালগুলো উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। একই সাথে অপরিকল্পিত ও অবৈধ মৎস্য খামার উচ্ছেদ করে কৃষকদের পুনরায় ধান চাষের সুযোগ করে দিতে উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat