সাইফুল ইসলাম, প্রতিনিধি পটিয়া (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় শুরু হওয়া বিরোধের জেরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তিন দফার এ ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা মো. সুজন, যুবদল নেতা মো. আমজাদ এবং ছাত্রদলকর্মী জাহাঙ্গীর, টিপু, আজাদ, ইরফান, শুভ, বোরহান, রায়হান, মাশফি, আফজল, রাফি ও আরফান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইরফান নামে এক কিশোরকে সন্দেহ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন ওই কিশোরকে ডেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে যুবদল নেতা আমজাদ প্রতিবাদ করলে সুজনের সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে আমজাদের পক্ষের লোকজন এসে সুজনসহ ৪-৫ জনকে মারধর করেন। পরে আহত সুজনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুজনকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে হাসপাতালের প্রবেশমুখে আবারও দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, আমজাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সুজন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলামের অনুসারী। সম্প্রতি হুলাইন পাইরোল উচ্চবিদ্যালয়ের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. হাদী জানান, ইউপি সদস্য সুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানোর সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। এ ঘটনায় আহত ১০ জন পটিয়া হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীন বলেন, প্রথমে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের লোকজন এসে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..