×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ১৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের নিজস্ব কক্ষে ঢুকে তাঁকে লাঞ্ছিত ও প্রহার করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি অভিযোগ করেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা বিশৃঙ্খলা ও মব সৃষ্টি করে এই আক্রমণ চালিয়েছেন।

অধ্যাপক কাজী আহমেদকে শারীরিকভাবে প্রহার করার একটি ভিডিও দৃশ্য সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর কাছে এসেছে। প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজ কক্ষে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ আট থেকে নয়জন লোক জোরপূর্বক রুমে প্রবেশ করেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে তাঁর বসার চেয়ার থেকে জোর করে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন।

উল্লেখ্য, আইইডিসিআর দেশের একটি অত্যন্ত জরুরি ও সংবেদনশীল সরকারি প্রতিষ্ঠান। জাতীয় পর্যায়ে সংক্রামক ব্যাধির পরিস্থিতি অনুধাবন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা ও আগাম সতর্কবার্তা জারি করাই এই সংস্থার মূল দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃতি থাকা আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থাসমূহের সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক গবেষণা কাজ পরিচালনা করে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদকে আইইডিসিআরের শীর্ষ পদ অর্থাৎ পরিচালকের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়। তিনি সম্প্রতি হামের প্রতিষেধক টিকার কার্যকারিতা পরিমাপ সংক্রান্ত বিশেষ গবেষণাকর্মে যুক্ত ছিলেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ প্রথম আলোর কাছে এ ধরনের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) নিজেরও কিছু তো ত্রুটি রয়েছে।’

ঠিক কী কারণে এই হামলা জানতে চাইলে তিনি তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে সংরক্ষিত একটি ছবি প্রদর্শন করে প্রশ্ন তোলেন, ‘বিদ্যমান সরকারের আমলে কাজী আহমেদ কোন যুক্তিতে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে নিজের অফিসে বসে গোপন বৈঠক করেন?’

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পদচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) শীর্ষ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। করোনাভাইরাস মহামারীকালীন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের কারণে তিনি সারাদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে উন্নীত করা হয়।

হামলার সময় পরিচালকের কক্ষে অবস্থানরত একজন প্রত্যক্ষদর্শী জনস্বাস্থ্যবিদ নাম গোপন রাখার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, প্রহারকারীদের কাউকেই তিনি আগে কখনো আইইডিসিআর প্রাঙ্গণে দেখেননি।

সংস্থার এই চরম অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিজ কর্মস্থলে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর করার ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য ও ধিক্কারজনক। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat