×
সদ্য প্রাপ্ত:
তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি তুরাগে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ঘটনাস্থলের কাছেই মিলল মোটরসাইকেল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাঃ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৩
  • ৩২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিরোধী দলের কথা বলার অধিকার ও কণ্ঠ স্তব্ধ করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে লড়াই চালিয়েছেন, জামায়াতও ঠিক একইভাবে রাজপথে থাকবে। জনগণের ছিনতাই হওয়া অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে তাঁদের হাতে ফেরত না আসা পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আজ মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কারামুক্ত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদ সফল হয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই বিমানবন্দরের অনিয়মের দায় স্বীকার করে দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি যে ট্রলি সংকটের কথা তুলে ধরেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া লাগেজ কাটা ও চুরির মতো অভিযোগ বন্ধে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই প্রবাসীরা তাঁদের লাগেজ হাতে পাচ্ছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও উল্লেখ করেন, আখতারুজ্জামান কারাবন্দী থাকলেও শুধু দেশের মানুষই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা প্রবাসীরাও এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং ক্ষেত্রবিশেষে দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রবাসীদের সুবিধার্থে তাঁর করা এই প্রতিবাদের সুফল এখন সবাই পাচ্ছেন।

সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। নিম্ন আদালতে জামিন না দিয়ে বাধ্য করা হয়েছে হাইকোর্টে যেতে। সেখান থেকে জামিন মেলার পরও আবার রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে সেই জামিন স্থগিতের আবেদন করেছে। এসব আচরণ সরকারের জন্য চরম লজ্জাজনক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিশাল ব্যর্থতা, প্রশাসনিক অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতেই এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের টার্গেট বানানো হচ্ছে। সরকার বিরোধী দলের ওপর দোষ না চাপিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ-দুর্দশা কমানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। অতীতেও স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে প্রতিবাদী কণ্ঠ চেপে ধরার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনীতিতে জেলে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে আমার এই কারাবরণের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ভেতরের আসল রূপ ও আক্রোশের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তারা বলত আক্রোশের রাজনীতি করে না, অথচ প্রবাসীদের সুনির্দিষ্ট ভোগান্তির প্রতিবাদ করায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো।’

তিনি আরও বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে হয়েছে, এরপর আবার চেম্বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। এভাবে দেশ পরিচালনা করা হলে জনগণ রাজপথে নেমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে সঠিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা উচিত।

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর সকালে পবিত্র মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি ও স্বজনদের নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। সে সময় লাগেজ পেতে দেরি, ট্রলির তীব্র সংকট ও জমজমের পানি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডা ঘটে।

উক্ত ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার দায়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পরদিন ২ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর নিম্ন আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। দায়রা আদালতেও জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান। অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat