অর্থনীতি প্রতিবেদক:
চলমান তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দেশের শীর্ষ সারির ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত মোট ২০৪টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে জব্দের (অবরুদ্ধ) নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর পাশাপাশি পোশাক শিল্পে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আরও প্রায় ১২৫টি প্রতিষ্ঠানকে সরকারের কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এনবিআরের দুটি পৃথক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট থেকে দেশের পরিচালিত সকল তফসিলি ব্যাংক ও অসংবিধিবদ্ধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এনবিআরের উচ্চপদস্থ রাজস্ব কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গোয়েন্দা তথ্যের সুনির্দিষ্ট তথ্যাদির ওপর ভিত্তি করেই এই সর্বাত্মক চিরুনি অভিযান ও হিসাব জব্দের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। এনবিআরের এই তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ বর্তমানে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং বাকিদের অনেকে আত্মগোপনে অবস্থান করছেন। এনবিআরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত এই সকল ব্যক্তি ও তাঁদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত পূর্বাপর লেনদেনের নথিপত্র এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক স্টেটমেন্ট অবিলম্বে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরবরাহ করা প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মূলত এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি পোশাক খাতকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার নেপথ্যে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।