কূটনৈতিক প্রতিবেদক:
মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশ থেকে চীন পর্যন্ত যোগাযোগের প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক করিডোর ঘিরে কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বা আশঙ্কার অবকাশ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। বরং এই ত্রিদেশীয় সংযোগ করিডোর বাস্তবে রূপ নিলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, মিয়ানমারের ভৌগোলিক সীমানা ব্যবহার করে চীনের সঙ্গে সংযোগকারী প্রস্তাবিত সড়ক বা করিডোর চালুর বিষয়ে কৌশলগত বা ভূরাজনৈতিক কোনো উদ্বিগ্নতার কারণ নেই। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনবে। তবে এই করিডোর বাণিজ্যিকভাবে সচল ও কার্যকর করার পূর্বে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান হওয়া অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার গুঞ্জন ও সম্ভাবনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা আইন অনুযায়ী একজন পলাতক সন্ত্রাসী। তাই তাঁর ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ বা বিষয় নেই; বরং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় তাঁকে হস্তান্তরের বিষয়টিই প্রযোজ্য হবে।