পিরোজপুর প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা, পড়ালেখায় মনোযোগী করা এবং শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় এক অভিনব ও সচেতনতামূলক মাইকিং প্রচারণা শুরু করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার প্রতি ক্রমবর্ধমান অমনোযোগিতা, সন্ধ্যা নামার পর অযথা বাইরে আড্ডা দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দূর করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার আলোকে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে একদিন উপজেলা সদরসহ ভাণ্ডারিয়া উপজেলার অধীনস্থ মোট ৭টি ইউনিয়নে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করার এই মাইকিং প্রচারণা চালানো হবে। গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রচারণায় সাধারণ মানুষের অবগতির জন্য জানানো হয় যে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশানুসারে এখন থেকে মাগরিবের নামাজের পর কোনো শিক্ষার্থী অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাতায়াত বা ঘোরাফেরা করতে পারবে না। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সী বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর ও শিক্ষার্থীদের নিকট কোনো ব্যবসায়ী বিড়ি বা সিগারেট বিক্রি করতে পারবেন না। এ ছাড়া স্কুল বা মাদ্রাসার ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দোকানে বসে অলস আড্ডা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বর্তমান সময়ে এসএসসি, এইচএসসি এবং দাখিলসহ প্রায় সকল পাবলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও কঠোর নিয়মের মাঝে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই শিক্ষার্থীদের পাস করার জন্য পড়ালেখা করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।
এই উদ্যোগের বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বাসসকে বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করলেও অনেক সময় সব অভিভাবকদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তাই বিকল্প এবং কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে আমরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয় পক্ষকে একযোগে সচেতন করতে এই মাইকিংয়ের পদ্ধতি বেছে নিয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বর্তমানে যেহেতু সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই আমরা শিক্ষার্থীদের মূলত এটি বোঝাতে চাচ্ছি যে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই। প্রাথমিকভাবে আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনাগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি এর ফলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সচেতন হবে। এর পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে আমাদের প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়মিত অভিযানও অব্যাহত থাকবে।’