ভঙ্গুর বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা অভূতপূর্ব মাত্রায় বাড়াল সরকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মাথায় দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ টনে দাঁড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য মজুতের সীমা ১৬ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সফল খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান ও আমদানির ফলে বর্তমানে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তার এক সন্তোষজনক চিত্র ফুটে উঠেছে:
বর্তমান রেকর্ড মজুত: বিগত ১০ ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খাদ্যের মোট মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ টন। ৬ মাসের ব্যবধানে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ টন বেড়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর তা ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে চাল রয়েছে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ টন, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ টন এবং ধান ৩৪ হাজার ৭০ টন।
সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি: দেশের খাদ্যগুদামগুলোর অতীত ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ টন। নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে তা ইতোমধ্যে ২৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
নিরাপদ মজুতের নতুন মানদণ্ড: এতদিন দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্য মজুতকে নিরাপদ সীমা গণ্য করা হলেও জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মানদণ্ড বাড়িয়ে ১৬ লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান মজুত প্রচলিত মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ টন বেশি।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহ অভিযানে গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ টন খাদ্যশস্য সফলভাবে সংগৃহীত হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ওএমএস (OMS) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সচল রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত ব্যাকআপ প্রস্তুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বৃদ্ধি পেলেও গমের পরিবর্তে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চাল বিতরণের মতো বিকল্প পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত রেখেছে।