সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার নিরাপত্তা, ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন এবং আবাসন বিধি ভঙ্গের অভিযোগে অন্তত ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশী নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই শ্রমবাজারে হঠাৎ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী কর্মীর ভিসা বাতিলের ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভিসা বাতিলের নেপথ্যে প্রধানত কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। ফ্রি-ভিসা বা অবৈধভাবে চুক্তির বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থানকারীদের চিহ্নিত করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশটিতে সামপ্রতিক সময়ে চালানো বিশেষ যৌথ অভিযানে অপরাধমূলক তৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়ে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে।
ট্রেড লাইসেন্স বা কাজের ভুয়া তথ্য দেখিয়ে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের ভিসা সনদে অসঙ্গতি পাওয়ায় বড় অঙ্কের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ এবং আজমানে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী গভীর উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। বাতিল হওয়া ভিসাধারীদের একটি বড় অংশকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউএই ত্যাগ করার অথবা আইনি প্রক্রিয়ায় দেশ ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউএই-তে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেল থেকে বিষয়টি নিয়ে আমিরাত পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালানো হচ্ছে। প্রকৃত অসচেতনতা বা প্রশাসনিক ভুলের কারণে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা দেওয়া এবং নতুন করে বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে কথা বলছে বাংলাদেশ মিশন।