মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধিষ্ণু সামরিক চড়াও অবস্থান এবং প্রক্সি যুদ্ধের সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এক প্রলয়ংকরী ভীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন।
তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধ ও সামরিক উন্মাদনা দ্রুত একটি নিয়ন্ত্রণহীন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে (Third World War) রূপ নিতে পারে, যার চূড়ান্ত পরিণতি দাঁড়াবে অভূতপূর্ব পারমাণবিক হামলায়। কার্লসনের যৌক্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের অপরিণামদর্শী পররাষ্ট্রনীতি ও তেহরানের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টির কৌশল কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে গিয়ে চীন ও রাশিয়ার মতো শীর্ষ পারমাণবিক শক্তিধর পরাশক্তিগুলোকে সরাসরি সামরিক বা কৌশলগতভাবে এই সংঘাতের ময়দানে নামিয়ে আনবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান ইতোমধ্যে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে এমন এক থ্রেশহোল্ড স্তরে নিয়ে গেছে, যেখানে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে সীমিত বা কৌশলগত পারমাণবিক মারণাস্ত্রের ব্যবহার কেবল তত্ত্বের মধ্যে আটকে থাকবে না, বাস্তব রূপ নেবে।
এছাড়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সুরক্ষার প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তেলের দামে ঐতিহাসিক ধস ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, যা মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে তাসের ঘরের মতো ধসিয়ে দিতে পারে।
যদিও পেন্টাগন ও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ কার্লসনের এই আশঙ্কাকে কৌশলগত ভীতি প্রদর্শন বা ‘অতিরিক্ত উদ্বেগ প্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবুও আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন—সরাসরি সামরিক সংঘাত ও পরমাণু কৌশলের চরম প্রতিযোগিতায় সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও পুরো বিশ্বকে এক ধ্বংসাত্মক ও প্রত্যাবর্তনহীন বৈশ্বিক যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।