সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ও এডিস মশাবাহিত ভাইরাসের বিস্তার রুখতে সংশ্লেষ্ট সব অংশীদারদের নিয়ে কঠোর ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। মশক নিধন অভিযানকে কেবল কাগজ-কলমে বা লোকদেখানো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ফলাফল নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দেন তিনি।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগে আয়োজিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মশক নিধন সংক্রান্ত এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিতকরণ এবং লার্ভা ধ্বংসে বৈজ্ঞানিক উপায় অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করেন। যেসব ওয়ার্ড ও এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকাকে ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে ড্রেন, জলাশয় ও নির্মাণাধীন ভবনে ধারাবাহিক লার্ভিসাইড ছেটানোর নির্দেশ দেন।
বাসাবাড়ির ছাদবাগান এবং অনভিগম্য স্থানে জমে থাকা পানির অবস্থান শনাক্ত করতে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শ অনুযায়ী কার্যকর ফগিং ও লার্ভিসাইডের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করতে ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং ‘নিজের আঙিনা নিজে পরিষ্কার রাখি’ শীর্ষক প্রচার অভিযান জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, মশক নিধন কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকারিতা তদারকিতে বায়োমেট্রিক ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় রেখে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ির আশপাশে বিশেষ স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়।