মোঃ অলি উদ্দিন মিলন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির মূল কারিগর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রাঙ্গণে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনাকে দেশের ইতিহাস বিকৃতি ও বীর শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ১৯৪৭ সালে জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলেই প্রথম 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' জিন্নাহর এমন ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানসহ তৎকালীন ছাত্র সমাজ। এরপর ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, '৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬-এর ছয় দফা এবং '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ডাকসু নেতৃত্ব দিয়েছিল অগ্রভাগে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ এই ডাকসু ভবনের সামনেই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। যে প্রতিষ্ঠানে জিন্নাহর শোষণের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, সেখানেই বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে জিন্নাহর ছবি স্থাপনকে সুপরিকল্পিত ষড়যাত্ন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বামপন্থী ও বিভিন্ন সমমনা শিক্ষার্থী সংগঠন। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতারা বলেন, "ডাকসু এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে গিয়ে যিনি জীবদ্দশায় বহু বছর কারাগারে কাটিয়েছেন এবং যার দূরদর্শী নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ, সেই বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে তৎকালীন শাসক জিন্নাহর ছবি বসানো একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।"
বক্তারা অবিলম্বে জিন্নাহর ছবি অপসারণের দাবি জানান এবং বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ ডাকসুর গৌরবোজ্জ্বল লড়াই-সংগ্রামের যাবতীয় ঐতিহাসিক উপাদান আগের জায়গায় সঠিকভাবে পুনঃস্থাপনের জোর দাবি জানান। তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রক্তে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো ধৃষ্টতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরো ঘটনার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বা ইতিহাস বিকৃতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..