দেশের ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন (মার্চ-জুন ২০২৬) অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে নতুন করে ৫ হাজার ৭৭ জন কোটিপতির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি দেশের অর্থনীতির একটি বিশেষ দিককে ইঙ্গিত করে।
নতুন কোটিপতি: ৫ হাজার ৭৭ জন।
মোট কোটিপতি আমানতকারী: জুন ২০২৬ শেষে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ জনে।
জুন ২০২৬ শেষে মোট আমানত: ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪টি অ্যাকাউন্টে মোট আমানতের পরিমাণ ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।
মার্চ ২০২৬-এর চিত্র: মার্চ ২০২৬ শেষে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০৭টি।
| আমানতের পরিমাণ | অ্যাকাউন্টের সংখ্যা |
| ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা | ৯৩,১৪৩ |
| ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা | ১২,২৫৪ |
| ১০ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা | ৪,০৮১ |
| ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা | ১,৯৫৮ |
| ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকা | ১,২৫৭ |
| ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা | ৯১১ |
| ৩০ কোটি থেকে ৩৫ কোটি টাকা | ৫১২ |
| ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকা | ৩৮১ |
| ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা | ৬৭৮ |
| ৫০ কোটি টাকার বেশি | ১,৮৫৪ |
সম্পদের কেন্দ্রীকরণ: অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশের মতে, কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি সরাসরি দেশের সামগ্রিক উন্নতির প্রতিফলন নাও হতে পারে। এটি বরং ইঙ্গিত দেয় যে সম্পদ অল্প কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর আয় দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
বিনিয়োগ হ্রাস ও সঞ্চয় বৃদ্ধি: ব্যবসার পরিবেশ বা বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হলে অনেকে টাকা ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখেন। কোটি টাকার অ্যাকাউন্টের এই বৃদ্ধি বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ারও একটি লক্ষণ হতে পারে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য: উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে কোটিপতিদের সংখ্যা বাড়ছে। এটি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
মন্তব্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তথ্য দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের আয়ের ব্যবধান বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।