আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ৫ নেতার অর্জিত সম্পত্তির ৫০ শতাংশ (অর্ধেক) জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গঠিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এ হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখী ও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতায় ব্যবহারের এই রায়কে দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ৫ নেতার নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক অংশ অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর ট্রাস্ট ফান্ডে জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযুক্তদের গোপন সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব চিহ্নিত করে ফ্রিজ (Freeze) ও ক্রোক (Attach) করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির আর্থিক মূল্য সরাসরি আন্দোলনকালীন নিহতদের পরিবার এবং চিকিৎসাধীন গুরুতর আহতদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার তহবিলে যুক্ত হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ভয়াবহতা এবং তাতে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শক্তির নির্বিচার ব্যবহারের পর গঠিত এই বিচারিক আদেশ আইন প্রয়োগে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা শীর্ষ কর্মকর্তার অবৈধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরাসরি ভুক্তভোগীদের কল্যাণে ব্যবহারের এই নির্দেশ আইনগত জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।