সোনালী কন্ঠ স্পোর্টস ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের প্রাক্কালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অনুশীলনে নেমেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে চিরতরে বিদায় জানাতে চলেছেন তিনি। আর এই শেষ অনুশীলনের পুরো সময়জুড়েই তাঁকে দেখা গেছে ফুরফুরে মেজাজে এবং হাসিমুখেই সতীর্থদের সঙ্গে সময় কাটাতে, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।
বিদায়ী ম্যাচের কাউন্টডাউন ও অনুশীলনের চিত্র
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় পৌঁছে গত রোববার এএফএ-এর (আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দেন মেসি। সোমবারের এই শেষ অনুশীলনে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে সতীর্থদের সঙ্গে ঘাম ঝরান তিনি।
হাসিমুখ ও সতীর্থদের সান্নিধ্য: দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ মাতালেও এবারের অনুশীলনের পরিবেশ ছিল অন্যরকম। কঠোর অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-মশকরা ও খোশগল্পে মেতে ওঠেন এল কাপ্তান। তাঁর মুখে সেই চিরচেনা হাসিমুখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
বিশেষ জার্সি ও আয়োজন: বেনিনের বিপক্ষে এই বিদায়ী ম্যাচের জন্য বিশেষ নকশার জার্সি তৈরি করেছে এএফএ। আকাশি-সাদা এই জার্সির মাঝখানে থাকবে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার সূর্য এবং সোনালী রঙে খোদাই করা থাকবে তাঁর নাম ও নম্বর, যা ম্যাচ শেষে তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় রাখা হবে।
স্মৃতিচারণ ও আবেগঘন বার্তা
ইনস্টাগ্রামে বার্তা: শেষ অনুশীলন শেষে সতীর্থদের সঙ্গে তোলা কিছু আবেগঘন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে মেসি লিখেছেন, "বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি খুব মিস করব।" তাঁর এই বার্তায় দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বেদনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঐতিহাসিক অবদান: ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে অভিষেক হওয়া এই জাদুকর আর্জেন্টিনার জার্সিতে উপহার দিয়েছেন ঐতিহাসিক সব মুহূর্ত। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফি জয়ের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটিয়েছিলেন তিনি।
বিদায়লগ্নে সমর্থক ও সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে উপচে পড়া ভিড়: বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের টিকিটের জন্য সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গেছে। কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের প্রায় সব সতীর্থই এই বিদায়ী আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি যুগের অবসান: নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসোদের সঙ্গে মেসির এই বিদায়ী মুহূর্তটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা ভারী হৃদয়ে অপেক্ষা করছেন নীল-সাদা জার্সিতে এই মহানায়কের শেষ ৯০ মিনিট দেখার জন্য।