বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ও একটানা ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের সর্বগ্রাসী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা, দেশের রাজপথে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভিন্নমত চিরতরে দমন করা এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের পুরোপুরি মাঠছাড়া করার সুদূরপ্রসারী ও হীন উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত উপায়ে ৬০ লাখেরও বেশি মিথ্যা, গায়েবি ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে আইনমন্ত্রী কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্যে উন্মোচিত হয়েছে।
যা মূলত রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থাকে সরাসরি একটি দলীয় ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক নিপীড়নের পাহাড় তৈরি করেছিল। এবং এর ফলস্বরূপ একদিকে যেমন দেশের লাখ লাখ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক, ভিন্নমতাবলম্বী এবং নিরীহ সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ধরে পুলিশি হয়রানি, গায়েবি মামলার পরোয়ানা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং নিয়মিত আদালত চত্বরে হাজিরা দেওয়ার অমানবিক যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন।
অন্যদিকে ঠিক তেমনি দেশের নিম্ন ও উচ্চ আদালতগুলোতে এই বিশাল পরিমাণ মামলার অনাকাঙ্ক্ষিত পাহাড়সম জট তৈরি হওয়ার কারণে বিচারিক কার্যক্রমে তীব্র স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং প্রকৃত অপরাধের শিকার সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা বছরের পর বছর আদালত চত্বরে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে এক চরম মর্মান্তিক দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
যা সামগ্রিকভাবে দেশের সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে চরমভাবে পদদলিত করে সমগ্র বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবের এক ভয়ানক জাঁতাকলে পিষে ফেলেছিল। এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য এই লক্ষাধিক গায়েবি মামলার পাহাড় আইনি প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রত্যাহার, আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়া নিশ্চিত করা একটি অতীব জটিল, সংবেদনশীল ও যুগান্তকারী প্রশাসনিক ও আইনি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..