চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশের আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক মহলের অত্যন্ত কঠোর তদারকি, নিয়মনীতি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপসহীন অবস্থান এবং সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের ফলস্বরূপ দেশের ব্যাংক খাতের সামগ্রিক শৃঙ্খলায় এক বিশাল ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলশ্রুতিতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়ে প্রায় তিন শতাংশের কাছাকাছি কমে এসেছে বলে সাম্প্রতিক আর্থিক খাতের ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
যা মূলত দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান চালিকাশক্তিগুলোকে পঙ্গু করে রাখা এবং তারল্য সংকটকে তীব্রতর করে তোলা এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অত্যন্ত সাহসিকতাপূর্ণ, সুদূরপ্রসারী এবং জিরো টলারেন্স নীতির একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, সফল ও আশাব্যঞ্জক ফলাফল হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও আর্থিক বিশ্লেষকদের নিকট ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
এবং এই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এই বড় ধরনের ক্ষত কিছুটা হলেও উপশম হওয়ায় এবং ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে, যা পরবর্তীতে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ আমানতকারীদের আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট আর্থিক খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ।