রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ধানমন্ডি লেক এবং অভিজাত এলাকার গুলশান ও বনানী লেকের চারপাশের পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ, দূষণমুক্তকরণ এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে এগুলোর সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত, কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং দ্রুত বর্ধমান এই মেগাসিটির বাসিন্দাদের মানসিক প্রশান্তি ও বিনোদনের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার বৃহত্তর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে লেকগুলোর চারপাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, পানি শোধনাগারের আধুনিকায়ন এবং মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ।
এই আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় লেকগুলোকে ঘিরে প্রশস্ত ওয়াকওয়ে ও সাইকেল লেন নির্মাণ, পর্যাপ্ত ও আধুনিক ল্যাম্পপোস্টের মাধ্যমে আলোকায়ন, নান্দনিক বসার স্থান এবং পরিবেশবান্ধব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রবীণ ও শিশুদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী কর্নার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার এই গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলো কেবল দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্রেই পরিণত হবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় রাজধানীর অন্যতম প্রধান পরিবেশগত ফুসফুস হিসেবেও কাজ করবে।
সর্বোপরি, প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ও জনবান্ধব নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে মেগাসিটি ঢাকার তীব্র যানজট ও কংক্রিটের জাঁতাকলে হাঁপিয়ে ওঠা সাধারণ মানুষের জন্য এই লেকগুলো এক একটি অনন্য প্রাণকেন্দ্র ও সুস্থ বিনোদনের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হবে বলে জোর আশা প্রকাশ করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদীরা।