৭৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় এক যুবককে পরপর ৬টি মামলা দিয়ে ফাঁসানো, শারীরিক নির্যাতন ও পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী তামিম আবু উমামা। এ সময় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার সূত্রপাত: তামিম জানান, যশোরের পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ের সঙ্গে প্রায় আড়াই বছর আগে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা হয়। তবে আনোয়ার হোসেন ৭৫ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করায় তাঁরা বিয়েতে অসম্মতি জানান। এরপর থেকেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে একের পর এক হয়রানি শুরু করেন কনের পরিবার।
গাড়িতে হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনা: অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অফিসে যাওয়ার পথে নীলগঞ্জ ভিসা অফিসের সামনে আনোয়ার হোসেনের লোকজন তামিমের গাড়ির গতিরোধ করে তাঁর ওপর হামলা চালায় ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে (যার ভিডিওচিত্র গাড়ির ড্যাশ ক্যামেরায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়)।
বাড়িতে হামলা ও হুমকি: এছাড়া গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তামিমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভিত্তিহীন মামলা: তামিম জানান, গত আড়াই বছরে তাঁর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪টিই আদালতে ইতোমধ্যে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে তাঁর বিরুদ্ধে একটি শ্লীলতাহানির মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়।
প্রভাবশালী কর্মকর্তার চাপ: তাঁদের পক্ষ থেকে করা একটি মানহানির মামলা তুলে নিতে এক প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তামিম।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।