কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় চাল, মাংস ও সয়াবিন তেল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শতাধিক শ্রমিক, ভিক্ষুক এবং অসচ্ছল নারী-পুরুষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের একটি গোরস্থান এলাকায় এই অভিনব প্রতারণার ঘটনা ঘটে।
খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার আশায় প্রতারকের দেওয়া স্লিপ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে গোরস্থানে গিয়েও ওই ব্যক্তির দেখা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন যে তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
কবর পরিষ্কার ও প্রলোভন: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি সকালে গোরস্থানে এসে একজনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কথা বলেন। এ জন্য তিনি গোরস্থানের শ্রমিকদের দিয়ে কয়েকটি কবর পরিষ্কার করান। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত ভিক্ষুক ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের ১০ কেজি চাল, এক কেজি মাংস ও এক বোতল তেল দেওয়ার আশ্বাস দেন।
মোবাইল ও তথ্য সংগ্রহ: খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন। এই অজুহাতে তিনি প্রায় ২০০ জনের কাছ থেকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি সংগ্রহ করেন। বিনিময়ে সবাইকে লাল ও সাদা রঙের দুটি করে স্লিপ দেওয়া হয়।
স্লিপ নিয়ে অপেক্ষা: ভুক্তভোগীদের বলা হয়েছিল, দুপুর ২টায় স্লিপ নিয়ে গোরস্থানে এলে খাদ্যসামগ্রী এবং মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শতাধিক মানুষ সেখানে উপস্থিত হলেও ওই প্রতারক আর ফিরে আসেননি।
এই ঘটনায় গোরস্থানের শ্রমিক, অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই নিজেদের বা স্বজনদের মোবাইল ফোন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ফরিদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চাল, মাংস ও তেল দেওয়ার কথা বলে আমাদের স্লিপ দিয়ে মোবাইল নিয়ে গেছে। আমরা গরিব মানুষ, সহায়তার আশায় সব হারালাম। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।” আরেক ভুক্তভোগী কাশেমও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। তবে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।