×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ১৮ বার পঠিত

রাজধানীরাজধানী

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির পূর্বঘোষিত কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন চলছে। ধর্মঘটের কারণে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কোনো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের অসহায় স্বজনেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ২ নম্বর ভবনের সামনে শত শত রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

ভোগান্তির শিকার এমন একজন রোগীর ভাই শামীম গাজী জানান, তাঁর ভাই হাসপাতালের নতুন ভবনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত এমআরআই করানোর পরামর্শ দেন। এই পরীক্ষার জন্য তাঁদের লালবাগের ইবনে সিনা হাসপাতালে যাওয়ার কথা এবং বাড়ি সাভারে। কিন্তু দীর্ঘ ৩০ মিনিট ধরে চেষ্টা করেও কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারেননি তাঁরা।

আরেক ভুক্তভোগী ৮০ বছর বয়সী রোগী শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শাহিনা আক্তার জানান, তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। গত ১৭ অক্টোবর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলেও অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে তাঁরা সেদিন বাড়ি ফিরতে পারেননি। আজও সকাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করেই বাবাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি।

জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থাকা রোগী সীমার ভাই রেজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার মাওয়া রোডে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর বোন গুরুতর আহত হন। ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশনে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাননি। এমনকি জরুরি সেবার নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন করেও কোনো সাহায্য মেলেনি। পরবর্তীতে জরুরি বিভাগের সামনে থাকা ঢামেকের নিজস্ব একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক তাঁদের পঙ্গু হাসপাতালে পৌঁছে দিতে রাজি হন এবং শেষ পর্যন্ত সেই গাড়িতে করেই বোনকে নিয়ে যান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণই বর্তমানে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যার বাইরে নয় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও। আশপাশের এলাকা থেকে অন্য কোনো গাড়ি এনে রোগী বহনের চেষ্টা করা হলেও আন্দোলনরত চালকেরা তাতে বাধা দিচ্ছেন। রোগীদের জিম্মি করে এই ধরনের আন্দোলন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী জানিয়েছেন, তাঁদের পূর্বনির্ধারিত এই ধর্মঘট ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। আজকের (বুধবার) মধ্যে যদি তাঁদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয়, তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সমগ্র ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও কঠোর ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে সুনির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের জোরালো দাবি জানিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat