×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ৩০ বার পঠিত

কক্সবাজার প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকায় গভীর নলকূপ বসানোর সময় ভূগর্ভ থেকে তীব্র গতিতে ধাবিত গ্যাসের শিখায় সৃষ্ট আগুন দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা পার হলেও নেভানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ভীতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, মঙ্গলবার সকালে জালিয়াাপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী গ্রামে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাসভবনের আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের কাজ চলছিল। সে সময় নলকূপের পাইপের মুখ দিয়ে বিকট শব্দে ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত গ্যাস উচ্চচাপে বের হতে থাকে এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়।

উৎসারিত আগুনের শিখা নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ও সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল টানা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মাটির নিচ থেকে ক্রমাগত গ্যাস নির্গত হতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। যেকোনো ধরনের বড় বিপর্যয় এড়াতে দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকা জুড়ে সাধারণ জনগণের চলাচলে কঠোর কড়াকড়ি ও সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে, অনবরত জ্বলতে থাকা আগুনের তীব্র শিখা নিকটবর্তী ৩৩ কেভি উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনে ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট ঝুঁকিতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকার বিদ্যুৎ সঞ্চালন সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিশদ মূল্যায়নে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল অকুস্থলে উপস্থিত হয়।

ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম গণমাধ্যমকে জানান, ভূগর্ভস্থ যে নির্দিষ্ট স্তর থেকে গ্যাসটি নির্গত হচ্ছে, সেখানকার গ্যাসের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে আগুন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিভে যাবে। তবে গ্যাসের চাপ অব্যাহত থাকলে এই আগুন আরও প্রায় সাত থেকে আট দিন পর্যন্ত জ্বলতে পারে। কৃত্রিম উপায়ে জোরপূর্বক এই আগুন নেভানোর উদ্যোগ নিলে ভূগর্ভের বিকল্প কোনো দুর্বল অংশ দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে অন্য কোথাও নতুন করে আগুন লাগার গুরুতর ঝুঁকি থেকে যায়। সে কারণে আপাতত আগুনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাপেক্স প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রাথমিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের সীমানায় থাকা অধিবাসী ও ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার এবং ঝুঁকিপূর্ণ পুরো এলাকাটি বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া নির্গত গ্যাসের রাসায়নিক নমুনা সংগ্রহ করে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে; পরীক্ষার চড়ান্ত ফলাফল আসার পরেই উক্ত গ্যাসের ধরণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat