নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে আটক সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে (৫১) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আসাদুল ইসলাম লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সার্ভেয়ার পদে কর্মরত রয়েছেন। এক ব্যক্তির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘুষ দাবির অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক সেখানে একটি সফল ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে। আজ বেলা ১১টার দিকে অভিযোগকারী ব্যক্তি লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে সার্ভেয়ারের নির্ধারিত কক্ষে আসাদুল ইসলামকে ওই টাকা প্রদান করেন। টাকা গ্রহণের পরপরই আসাদুল তা তাঁর ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকে সংরক্ষণ করেন। এ সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুদকের বিশেষ ফাঁদ দলের সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন
দুদক সূত্রে জানা যায়, ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসাদুল ইসলাম তা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাক তল্লাশি করে খাকি রঙের খামে রাখা ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ওই নোটগুলোর ক্রমিক নম্বরের সঙ্গে অভিযানের পূর্বে অভিযোগকারীর সরবরাহ করা টাকার নোটের নম্বরের হুবহু মিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন
দুদক আরও জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকা জেলার লালবাগ থানার চরকামরাঙ্গী মৌজার ২৮২ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিকদের নিকট থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন। উক্ত জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি আলাদা করা এবং সঠিক নকশা তৈরির জন্য তিনি গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও তাঁর জমির সীমানা নির্ধারণের কাজটি সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুলের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমির সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলাম মনিরুলের কাছে মোট ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মনিরুল বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) লিখিতভাবে জানান। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদক একটি কৌশলগত ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করে
এরই ধারাবাহিকতায় দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল আজ মঙ্গলবার এই পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়