কূটনৈতিক প্রতিবেদক:
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হওয়ার কারণে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে অন্য কোনো বিকল্প পথ বা ট্রাভেল নথি নয়; বরং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহাল থাকা বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক ‘বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি’ (Extradition Treaty)-র আইনি কাঠামোর আওতেই তাঁকে দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে।
এদিকে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে পরিকল্পিত ত্রিদেশীয় বাণিজ্যিক করিডোর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এই আঞ্চলিক সংযোগ নিয়ে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক বা কৌশলগত কোনো উদ্বেগের সুযোগ নেই। প্রকল্পভিত্তিক এই করিডোর বাস্তবে রূপ নিলে পুরো অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এক নতুন ও শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হবে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই আঞ্চলিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে এই বাণিজ্যিক পথ চালুর পূর্বশর্ত হিসেবে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধান হওয়া আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিশেষে, চীনের সিপিসি নেতা লিউ হাইশিংয়ের এই উচ্চপর্যায়ের ঢাকা সফরকে অত্যন্ত সফল আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই যোগাযোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর, সুদৃঢ় এবং গতিশীল রূপ লাভ করবে।