হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
শীতের ভোর মানেই খেজুর গাছে ঝুলে থাকা রসের হাঁড়ি, গাছিদের ব্যস্ততা আর নতুন গুড়ের গন্ধ। কিন্তু হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। শিল্পায়ন, গাছ কাটা আর পেশা বদলের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস।
এক সময় নুরপুর, সুতাং, লেঞ্জাপাড়া থেকে বিরামচর— যেদিকে চোখ যেত, সারি সারি খেজুর গাছ। কার্তিক মাস এলেই গাছিরা গাছের মাথা পরিষ্কার করে ‘গাছ তোলা’ উৎসবে মেতে উঠতেন। সন্ধ্যায় মাটির হাঁড়ি পেতে ভোরে নামানো হতো টলটলে রস। সেই রসে তৈরি হতো ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা আর লাল টুকটুকে গুড়।
আজ সেই ব্যস্ততা নেই। সড়কের পাশের গাছগুলো কেটে গড়ে উঠেছে কলকারখানা ও বসতবাড়ি। নতুন গাছ লাগানোর আগ্রহও কম।
সুতাং এলাকার প্রবীণ গাছি আব্দুল হক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “আগে একাই ১৫০টা গাছ কাটতাম। এখন পুরা শায়েস্তাগঞ্জ খুঁজেও ২০টা গাছ পাই না। পেট চলে না বলে পোলাপান আর এই কামে আইতে চায় না।”
স্থানীয়রা বলছেন, আগে শীতের সকালে ২০ টাকায় এক কলস রস পাওয়া যেত। এখন ১৫০ টাকায়ও খাঁটি রস মেলে না। বাজারে যা বিক্রি হয়, তার বেশিরভাগই চিনি-পানি মেশানো।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরাম হোসেন জানান, বর্তমানে উপজেলায় মাত্র ১১০টি খেজুর গাছ অবশিষ্ট আছে। গত বছর কিছু চারা প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সামনে আরও চারা বিতরণ ও গাছিদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু চারা বিতরণ নয়, খেজুর গাছ কাটা বন্ধে কড়াকড়ি, গাছিদের সরকারি ভাতা ও রসের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে আবারও ফিরবে শীতের সেই মিষ্টি সকাল।
এ জাতীয় আরো খবর..