বিশেষ প্রতিবেদক:
দেশের আকাশে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি ‘জেট ফুয়েল’-এর মূল্য আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৮২.৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৯.০৩ টাকা করা হয়েছে। তবে একই সময়ে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই জ্বালানির দাম কিছুটা কমিয়ে প্রতি লিটার ১.১৮ মার্কিন ডলারের পরিবর্তে ১.১৬ মার্কিন ডলার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই নতুন মূল্যতালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। বিইআরসি জানিয়েছে, আজ রাত ১২টার পর থেকেই নতুন এই নির্ধারিত দর সারা দেশে কার্যকর হবে।
উলেখ্য, দেশে গত টানা চার মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে জেট ফুয়েলের বাজারদর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩০.৯৯ টাকা। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে তা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৯.৫২ টাকায়। এর পরের মাস সেপ্টেম্বরে ফের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে নির্ধারণ করা হয় ১৬৫.৬৫ টাকা এবং সর্বশেষ গত অক্টোবরে তা আরও এক ধাপ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২.৭১ টাকায়।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের আনুষ্ঠানিক মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। ওই সময় সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিশ্ববাজারের মূল্যের সাথে সংগতি রেখে প্রতি মাসে অভ্যন্তরীণ বাজারেও জ্বালানির দর নিয়মিত সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলে দেশীয় বাজারেও দাম বাড়ানো হবে এবং বিশ্ববাজারে দাম কমলে তা হ্রাস করা হবে। এর পূর্বে বিইআরসির পরিবর্তে এককভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সময়-অসময়ে এই জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে আসছিল; এমনকি এক একক মাসের মধ্যেই একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করার পূর্ব নজির ও রেকর্ড রয়েছে বিপিসির।