×
সদ্য প্রাপ্ত:
চিকিৎসা নাকি ডিজিটাল মার্কেটিং: ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএমডিসির তদন্ত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ এলাকা থেকে অজ্ঞাত ২ মরদেহ উদ্ধার এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, জিপিএ-৫ বাড়ল ৩ হাজার ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টানা পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নেবে ওমান বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট ফতুল্লায় মাদকের আস্তানায় অভিযানে আগুন—পুলিশের কড়া অভিযানে পুড়ল অপরাধের ঘাঁটি! রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভয়াবহ আগুন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১০-১৩
  • ১৩৯ বার পঠিত
নাদিমুল আল তানভীর, কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি ;

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র আল্লাহু চত্বর এখন যানজটের সমার্থক নাম। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোনো না কোনো সময় এ এলাকাটি পরিণত হয় যানবাহনের জটের মেলায়। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারও পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও অফিসগামী মানুষকে।

চত্বর সংলগ্ন সড়কগুলো যেমন মুরাদনগর–ইলিটগঞ্জ, মুরাদনগর–রামচন্দ্রপুর ও মুরাদনগর–হোমনা সড়ক সব দিক থেকেই যানবাহন এসে মিশে যায় এই এক চত্বরে। মূল সড়ক ফাঁকা থাকলেও চত্বরে পৌঁছাতেই থেমে যায় যানচলাচল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং, যাত্রী তোলা-নামার স্থান না থাকা, এবং অটো রিকশা, সিএনজি, ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত চলাচলই যানজটের প্রধান কারণ।

প্রায়ই দেখা যায়, "গরিবের টেসলা" খ্যাত অটো রিকশাগুলো যাত্রী তোলার জন্য রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে ট্রাক ও মালবাহী গাড়িগুলো বাজার এলাকায় পণ্য ওঠানামার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা দখল করে রাখে। এতে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে আধা ঘণ্টারও বেশি।

ভুক্তভোগী যাত্রী রফিকুল ইসলাম, যিনি প্রতিদিন মুরাদনগর সদর থেকে রামচন্দ্রপুরে যান, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিন সকালে কাজের জায়গায় যেতে দেরি হয়ে যায়। আল্লাহু চত্বরে এলেই যানজটে আটকে থাকতে হয় কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট। পুলিশের লোক আসলে একটু চলাচল হয়, না হলে পুরোপুরি অচল হয়ে যায় রাস্তা।"



স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিক মিয়া বলেন, "আমাদের দোকানের সামনে প্রতিদিনই রিকশা আর সিএনজির লাইন লেগে থাকে। ক্রেতারা দোকানে আসতে ভয় পায়, কারণ রাস্তা পার হতে গিয়েই আটকে যায় যানজটে।"

কলেজ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পরীক্ষার দিনও সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি। বাস থেকে নেমে হেঁটেই কলেজে যেতে হয়। আল্লাহু চত্বর এখন যেন যন্ত্রণা চত্বর হয়ে গেছে।"

পুলিশ ও প্রশাসন মাঝে মধ্যেই ট্রাফিক অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করছে। কিছু সময়ের জন্য যানজট কমলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আল্লাহু চত্বরের আশেপাশে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন, অটো ও সিএনজির জন্য স্টপেজ নির্ধারণ, এবং স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ বুথ স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যবসায়িক এলাকা ও হাট–বাজারগুলোর জন্য সময়ভিত্তিক মালবাহী গাড়ির চলাচলের নিয়ম প্রণয়ন করলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হতে পারে।

মুরাদনগরের আল্লাহু চত্বর প্রতিদিনের প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক হলেও, এখন তা মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাময়িক অভিযান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থায়ী সমাধান। নইলে মুরাদনগরের এই গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ভবিষ্যতে পুরো উপজেলার যানবাহন ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat